ADX

ঘরে থাকা ৭ উপাদানেই তৈরি করুন প্রাকৃতিক ক্লিনার, খরচও কম

0 Siyam Hasan


ঘরে থাকা ৭ উপাদান দিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক ক্লিনার

ঘরে থাকা ৭ উপাদান দিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক ক্লিনার



বাজারের দামি ক্লিনার না কিনেও ঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায় সহজ ও কম খরচের ঘরোয়া ক্লিনার। রান্নাঘর, বাথরুম, জানালা কিংবা বিভিন্ন শক্ত পৃষ্ঠ পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা যায় এমন একটি সাধারণ ক্লিনার তৈরিতে প্রয়োজন হতে পারে ভিনেগার, বেকিং সোডা, লেবু, লবণ, পানি, তরল সাবান ও অ্যালকোহলের মতো উপাদান।

তবে সব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে ব্লিচের সঙ্গে ভিনেগার বা অ্যামোনিয়া জাতীয় কোনো উপাদান মেশানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই ঘরোয়া ক্লিনার তৈরির ক্ষেত্রে উপাদানের সঠিক ব্যবহার ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জানা জরুরি।

যে ৭ উপাদান লাগবে

ঘরে থাকা বা সহজে পাওয়া যায় এমন নিচের ৭টি উপাদান দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সাধারণ পরিষ্কারক তৈরি করা যায়।

  1. সাদা ভিনেগার
  2. বেকিং সোডা
  3. লেবুর রস
  4. লবণ
  5. তরল ডিশওয়াশ বা মৃদু সাবান
  6. পানি
  7. অ্যালকোহল

সব উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কোন পৃষ্ঠ বা জায়গা পরিষ্কার করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে উপাদান বেছে নিতে হবে।

কীভাবে তৈরি করবেন সহজ ঘরোয়া ক্লিনার

একটি স্প্রে বোতলে প্রায় এক কাপ পানি নিয়ে তার সঙ্গে আধা কাপ সাদা ভিনেগার মেশানো যেতে পারে। চাইলে এতে অল্প পরিমাণ লেবুর রস যোগ করা যায়। এরপর সামান্য তরল সাবান মিশিয়ে বোতলটি হালকাভাবে ঝাঁকিয়ে নিলেই সাধারণ পৃষ্ঠ পরিষ্কারের জন্য একটি সহজ ক্লিনিং সলিউশন তৈরি হবে।

এই মিশ্রণ রান্নাঘরের কিছু শক্ত পৃষ্ঠ, জানালার কাচ বা দৈনন্দিন পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মার্বেল, গ্রানাইট বা অন্যান্য প্রাকৃতিক পাথরের ওপর ভিনেগার ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ অ্যাসিডিক উপাদান এসব পৃষ্ঠের ক্ষতি করতে পারে।

বেকিং সোডা দিয়ে কী পরিষ্কার করা যায়?

বেকিং সোডা হালকা ঘষে পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করা যায়। রান্নাঘরের সিঙ্ক, কিছু শক্ত পৃষ্ঠ বা জমে থাকা ময়লা পরিষ্কারে অল্প পানি দিয়ে বেকিং সোডার পেস্ট তৈরি করা যেতে পারে।

একটি পাত্রে কয়েক চামচ বেকিং সোডা নিয়ে অল্প পানি যোগ করে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এরপর নোংরা জায়গায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে নরম কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করা যায়।

তবে কোনো নতুন পৃষ্ঠে ব্যবহার করার আগে ছোট ও কম দৃশ্যমান জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

লেবু ও লবণের ব্যবহার

লেবুর রসের অ্যাসিডিক বৈশিষ্ট্য এবং লবণের হালকা ঘর্ষণ ক্ষমতা কিছু পরিষ্কারের কাজে সহায়ক হতে পারে। রান্নাঘরের কিছু ধাতব বা শক্ত পৃষ্ঠ পরিষ্কারে লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য লবণ ব্যবহার করা যায়।

তবে সব ধরনের ধাতু বা পৃষ্ঠে এটি নিরাপদ নয়। বিশেষ করে সূক্ষ্ম, পালিশ করা বা সংবেদনশীল পৃষ্ঠে ব্যবহারের আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।

কাচ পরিষ্কারে কী ব্যবহার করবেন?

জানালার কাচ পরিষ্কার করতে পানি ও সাদা ভিনেগারের পাতলা দ্রবণ ব্যবহার করা যায়। স্প্রে করার পর মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে মুছে দিলে কাচের ওপরের সাধারণ ধুলা ও দাগ পরিষ্কার হতে পারে।

কাচ পরিষ্কারের সময় অতিরিক্ত তরল ব্যবহার না করাই ভালো। এতে শুকানোর পর দাগ পড়ে যেতে পারে।

বাথরুম পরিষ্কারে ঘরোয়া উপাদান

বাথরুমের কিছু শক্ত পৃষ্ঠ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বেকিং সোডা ও পানি দিয়ে তৈরি পেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। সাবানের দাগ বা সাধারণ ময়লা পরিষ্কারে এটি সহায়ক হতে পারে।

তবে ছত্রাক, জীবাণু বা গুরুতর ময়লার ক্ষেত্রে শুধু ঘরোয়া ক্লিনারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত বাণিজ্যিক ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে এবং পণ্যের লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

কেন ঘরোয়া ক্লিনার ব্যবহার করবেন?

ঘরে তৈরি ক্লিনারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর উপাদানগুলো অনেক সময় হাতের কাছেই পাওয়া যায়। ফলে প্রতিবার আলাদা করে দামি পরিষ্কারক কেনার প্রয়োজন কমতে পারে।

আরেকটি সুবিধা হলো প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণ তৈরি করা যায়। তবে “প্রাকৃতিক” বা “ঘরোয়া” হলেই কোনো মিশ্রণ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত, এমন ধারণা ঠিক নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

ঘরোয়া ক্লিনার তৈরির সময় কিছু নিয়ম অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

ভিনেগারের সঙ্গে ব্লিচ কখনো মেশাবেন না। ভিনেগার ও ব্লিচ একসঙ্গে মিশলে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হতে পারে।

একইভাবে ব্লিচের সঙ্গে অ্যামোনিয়া বা অ্যামোনিয়াযুক্ত কোনো ক্লিনার মেশানো উচিত নয়।

একাধিক ক্লিনিং পণ্য একসঙ্গে মেশানোর আগে লেবেলের নির্দেশনা পড়ে নিন। শিশুদের নাগালের বাইরে সব পরিষ্কারক রাখুন এবং চোখ বা ত্বকের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

৭ উপাদানের মধ্যে কোনটি কখন ব্যবহার করবেন?

ভিনেগার: কিছু শক্ত পৃষ্ঠ ও কাচ পরিষ্কারে ব্যবহার করা যায়।
বেকিং সোডা: হালকা ঘষে পরিষ্কার করার কাজে উপকারী।
লেবু: কিছু দাগ ও গন্ধ দূর করার কাজে ব্যবহার করা যায়।
লবণ: হালকা ঘর্ষণ প্রয়োজন হলে কাজে লাগতে পারে।
তরল সাবান: তেল ও সাধারণ ময়লা পরিষ্কারে সহায়ক।
পানি: বেশিরভাগ ঘরোয়া ক্লিনিং মিশ্রণের মূল উপাদান।
অ্যালকোহল: কিছু পৃষ্ঠ পরিষ্কার ও দ্রুত শুকানোর কাজে ব্যবহার করা হয়, তবে সব ধরনের পৃষ্ঠে উপযুক্ত নয়।

ঘরে তৈরি ক্লিনার কি সব ধরনের ময়লা পরিষ্কার করতে পারে?

না। ঘরে তৈরি ক্লিনার সাধারণ ধুলা, কিছু দাগ, তেল বা দৈনন্দিন ময়লা পরিষ্কারে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু জীবাণুনাশ, গভীর ছত্রাক, শক্ত রাসায়নিক দাগ বা বিশেষ ধরনের ময়লার জন্য নির্দিষ্ট ক্লিনিং পণ্য প্রয়োজন হতে পারে।

তাই ঘরোয়া ক্লিনারকে সব ধরনের বাণিজ্যিক ক্লিনারের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

শেষ কথা

ঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান ব্যবহার করে সহজেই কিছু কম খরচের পরিষ্কারক তৈরি করা সম্ভব। ভিনেগার, বেকিং সোডা, লেবু, লবণ, পানি ও মৃদু সাবানের মতো উপাদান দৈনন্দিন পরিষ্কারের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়।

তবে উপাদান নির্বাচন ও মেশানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্লিচ, অ্যামোনিয়া এবং অ্যাসিডিক উপাদান একসঙ্গে মেশানো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। নতুন কোনো মিশ্রণ ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়াও নিরাপদ অভ্যাস।

সঠিক উপাদান, সঠিক অনুপাত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলে ঘর পরিষ্কারের কিছু কাজে সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিই হতে পারে কম খরচের একটি কার্যকর সমাধান।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!